রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবি ছাত্রশিবিরের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেটের দাবি ছাত্রশিবিরের

জুলাই বিপ্লবের পর গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে তারুণ্যবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ এই দাবি তুলে ধরেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজ-এর নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, দেশের যুব বেকারত্বের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী কারিগরি শিক্ষা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়নের প্রস্তাব দেন তিনি।

আর্থিক খাতের সংকট নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের ঋণের বোঝা বর্তমানে ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতি বছর ৩ লাখ কোটি টাকা করে এই ঋণের বোঝা বাড়ছে। ব্যাংক খাতে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দেশের অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে করে দিয়েছে। তিনি মেধা পাচার রোধে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান।

শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, দেশে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার এখনো দৃশ্যমান নয়।সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, "জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। তাই তরুণদের অবদান উপেক্ষা করলে সরকার সংকটে পড়বে।" তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের হাতে ৯০ শতাংশ সম্পদ কুক্ষিগত রয়েছে। 

তিনি আসন্ন বাজেটে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ এবং শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান।সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. শিব্বির আহমেদ এবং এস এম ফরহাদ প্রমুখ। পরিশেষে সভাপতি ঘোষণা করেন, তরুণদের এই ভাবনাগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রস্তাবনা আকারে শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হবে। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিবিরের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।