মে ১৫, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়ের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই দলটি মনে করছে, তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য এই নির্বাচনগুলোই এখন বড় সুযোগ। ইতিমধ্যে দলটি তাদের নির্বাচনি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পরিচালনা কমিটিও গঠন করেছে। মূলত তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতেই এখন তাদের প্রধান ফোকাস।
সারা দেশে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এনসিপি জোটগতভাবে লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের ভোটব্যাংককে কাজে লাগাতে চায় তারা। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটি এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, জোটকে এই মুহূর্তে ভাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তাই আলোচনার মাধ্যমে আসন সমঝোতা করা হবে। এরই মধ্যে পোলিং এজেন্ট তৈরি এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি দেওয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবায় এখন বড় ধরনের শূন্যতা কাজ করছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি সরকারকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। যদি তা না হয়, তবে সংসদ থেকে রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। সেই সঙ্গে যারা বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যেন ভোটে অংশ নিতে না পারেন — সেই দাবিও তোলা হয়েছে। মাঠ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগাতে চায় এনসিপি। এজন্য প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়াও জোরালোভাবে চলছে। উপজেলা পর্যায়ে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই বড় ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। নির্বাচনি ময়দানে ভালো ফল পাওয়ার ব্যাপারে তারা এখন থেকেই বেশ আশাবাদী।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন