জুন ১৮, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পূর্ণ বিনা জামানতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দলটির বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জামায়াত নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন।
তাঁর দাবি অনুযায়ী দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।বিনা জামানতে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে তিনি একটি সাধারণ নমুনা মাত্র বলে উল্লেখ করেন।রাশেদ খাঁন বলেন যে জামায়াতের নেতারা সাধারণত নিজেদের নামে সরাসরি কোনো ব্যাংক ঋণ নেন না। তারা মূলত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা দলের সাধারণ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নামে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে আড়ালে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
এই কৌশলের কারণে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রে সরাসরি ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপি দেখানোর কোনো আইনি সুযোগ থাকে না। দেশের সাধারণ নাগরিকেরা যেখানে ঋণের জন্য ঘুরছেন সেখানে জামায়াত নেতারা বিনা জামানতে বিপুল অর্থ পাওয়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি বিগত ১৬ বছরের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন যে বিএনপির যেসব নেতারা ব্যবসায়িক ঋণ নিয়েছিলেন তারা দীর্ঘ সময় ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারেননি।
অনেকে দেশে থাকতে পারেননি, ঘরে ঘুমাতে পারেননি এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমান সংসদে বিরোধী দল যাদের ঢালাওভাবে ঋণখেলাপি বলছে তারা মূলত বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাময়িক ঋণগ্রস্ত মাত্র। সংসদ সদস্যদের এভাবে কটাক্ষ করা গর্হিত কাজ এবং বিরোধী দলের এসব বক্তব্য মূলত সরকারকে জনগণের সামনে ভিলিফাই বা অপদস্ত করার জন্য একধরণের সুনির্দিষ্ট প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন