জুন ২২, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবসংক্রান্ত নিজের বক্তব্য ঘিরে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তথা যুবদল নেতা হৃদয় হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদন জমা দেন।ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী হৃদয় হাসানের আইনজীবী আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, চলতি বছরের গত ১ এপ্রিল সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ বা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ঘুষের প্রস্তাবকারীদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব বা আইনগত পদক্ষেপ না পাওয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের স্বার্থে এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনে দেওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে মুফতি আমির হামজা প্রকাশ্য বক্তব্যে দাবি করেছিলেন যে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য তাঁকে ৫০ কোটি টাকার বিশাল ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর এই বক্তব্য পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এমন গুরুতর এবং সংবেদনশীল দুর্নীতির অভিযোগের পরও কারা ওই বিপুল অংকের ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাদের পরিচয় বা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ দায়ের না করায় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।এই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্যস্ত রয়েছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত কথা বলবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন