সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামো আওয়ামী লীগ বা বিএনপির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দলটির কর্মী ব্যবস্থাপনা, কৌশল ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। "দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলেদের বেছে নিয়ে তারা কাউকে ব্যারিস্টার বানায়, কাউকে ডাক্তার বানায়।"
জামায়াতের কর্মী ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে রুমিন ফারহানা জানান, বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপির কোনো কর্মী কারাগারে গেলে তার খোঁজ কেউ নিত না। পরিবারকেই সব সামলাতে হতো। কিন্তু জামায়াতের কোনো কর্মী গ্রেপ্তার হলে দল থেকেই তার পরিবারের বাজার খরচসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া দলটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি উৎস থেকে দলের তহবিল আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি জানান, সমাবেশে যোগ দিতে কর্মীরা নিজেদের খরচেই যাতায়াত করেন। তাদের কর্মসূচিগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।
জনসমাবেশের কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় সমাবেশ হলে নীলফামারীর কর্মীরা সেখানে চলে আসেন। আবার নীলফামারীর কর্মসূচিতে যোগ দেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কর্মীরা। সারা দেশের নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিতভাবে এক জায়গায় জড়ো হওয়ার কারণেই তাদের সমাবেশগুলো এত বিশাল আকার ধারণ করে। আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রসঙ্গে এই রাজনীতিক মনে করেন, জামায়াত অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং হিসাব কষে এগোচ্ছে।
আওয়ামী লীগ যদি আগামী নির্বাচনের মাঠের বাইরে থাকে, তবে জামায়াত পরিস্থিতি কাজে লাগাবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা যত বাড়বে, তারা হয়তো আরও অপেক্ষা করবে। যখন তারা নিশ্চিত হবে যে ১৫২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব, তখনই তাদের মূল কৌশল বাস্তবায়ন শুরু হবে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের কাছে নিজস্ব তথ্য ও পরিসংখ্যান রয়েছে।
সবশেষে দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৪১-৪২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ইতিহাসের উল্টো দিকে দাঁড়িয়েছে। একাত্তরের সেই বিশাল নেতিবাচক ইতিহাস ঘাড়ে নিয়েও দলটি টিকে আছে। অসাধারণ অধ্যবসায় ও লেগে থাকার মানসিকতার কারণেই এত বছর পর তারা আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন