অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১০:৫০ এএম
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ তিন দফা দাবিতে এক মঞ্চে সরব হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত 'জাতীয় সেমিনার'-এ এই দাবিগুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উত্থাপিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী যেকোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশ, সুতরাং তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে তা বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং ধর্মীয় শিক্ষা সেই ভিত্তির মূল শক্তি। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একটা জাতি ধ্বংস করার অধিকার ড. ইউনূস আপনার নেই।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মো. রেজাউল করীম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করতে হবে, অন্যথায় সব দল মিলে সম্মিলিত কর্মসূচি দেওয়া হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সভা-সমাবেশ করতে হবে, তা প্রত্যাশিত ছিল না। তিনি অবিলম্বে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ইসলামি শিক্ষা ও আলেমদের যেভাবে দমিয়ে রেখেছিল, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশেও তা চলতে পারে না। খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কাণ্ডজ্ঞানহীন। তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুফতি রেজাউল করিম আবরার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন