অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১০:৫৬ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সম্প্রতি ডাকসু, প্রক্টরিয়াল টিম ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে পরিচালিত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। উচ্ছেদের প্রতিবাদে হকারদের সঙ্গে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতি ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে কারও ভালো কাজে বিরোধিতা করলে দেশ কখনোই উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে না। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
রাশেদ খান তার পোস্টে লেখেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কেই হকারমুক্ত ও ফুটপাতের দোকানীমুক্ত করে নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তিনি অবশ্য এটাও উল্লেখ করেন যে, যারা বৈধভাবে ব্যবসা করতে চায়, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তিনি চীনের উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বাংলাদেশের মতো নয়, যেখানে ভবঘুরেদের অবাধ বিচরণ বা যেখানে সেখানে দোকানপাট থাকে। গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের করার পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন, কোনো আবেগ বা মায়া দিয়ে একটি শৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘শুধুমাত্র বিরোধী রাজনীতি ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে কারও ভাল কাজে কেউ বিরোধিতা করলে দেশ কখনোই উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে না। আসুন, ভালো কাজে সবাইকে সমর্থন করি।’
এর আগে এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ক্যাম্পাসে হয় ডাকসু থাকবে, নতুবা অবৈধ ব্যবসা ও মাদক সিন্ডিকেট থাকবে; দুটো একসাথে চলতে দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের ফলে যাদের মাদক ও অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে যাচ্ছে, তারাই প্রতিবাদ করছে। রাশেদ খানের বক্তব্য মূলত এই প্রেক্ষাপটেই এসেছে, যেখানে তিনি মূল উচ্ছেদ কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন, যদিও এই ইস্যুতে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তার দলের আদর্শিক পার্থক্য রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন