মার্চ ২৩, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকার শীর্ষে থাকা গরুর মাংসের কালা ভুনা এখন সারাদেশেই সমান জনপ্রিয়। উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এই পদের বিশেষ কদর রয়েছে। রান্নার বিশেষ প্রক্রিয়ার কারণে এই মাংসের রঙ গাঢ় কালো হয় এবং মশলার এক অনন্য ঘ্রাণ তৈরি হয় যা সাধারণ মাংসের ভুনা থেকে একে আলাদা করে।
এই চমৎকার রেসিপিটি ঘরেই খুব সহজে তৈরি করার জন্য সঠিক উপকরণের সমন্বয় ও ধৈর্য অত্যন্ত জরুরি।রান্নার এই আয়োজনে প্রয়োজন দুই কেজি হাড় ছাড়া গরুর মাংস।
প্রধান উপকরণের তালিকায় মশলা হিসেবে থাকবে আধা চামচ মরিচ গুঁড়া, এক চামচ হলুদ গুঁড়া, আধা চামচ জিরার গুঁড়া ও আধা চামচ ধনিয়ার গুঁড়া। বাটা মশলার মধ্যে এক চামচ পেঁয়াজ বাটা, দুই চামচ রসুন বাটা ও আধা চামচ আদা বাটা সংগ্রহ করতে হবে। এর সাথে প্রয়োজন পড়বে সামান্য গরম মশলা যেমন দারুচিনি ও এলাচি।
রান্নার শেষ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, কয়েকটি আস্ত কাঁচা মরিচ এবং পরিমাণমতো লবণ ও সরিষার তেল হাতের কাছে রাখতে হবে।প্রস্তুত প্রণালীর শুরুতে মাংস খুব ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া জরুরি। পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ আলাদা সরিয়ে রেখে বাকি সব মশলা ও সরিষার তেল দিয়ে মাংসটি ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। মশলা মাখানো মাংস হাঁড়িতে দিয়ে চুলায় হালকা আঁচে বসিয়ে দিতে হবে। এরপর দুই কাপ পানি দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হতে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
যদি দেখা যায় মাংস শক্ত রয়ে গেছে তবে আরও কিছুটা গরম পানি যোগ করে জ্বাল বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঝোল পুরোপুরি শুকিয়ে যখন মাংস নরম হয়ে আসবে তখন হাঁড়িটি চুলা থেকে নামিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে।কালা ভুনার আসল স্বাদ ও রঙ আনতে সবশেষে বাগার বা ফোড়ন দেওয়া আবশ্যক। এজন্য অন্য একটি কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ বাদামী করে ভেজে নিতে হবে।
পেঁয়াজ সোনালী রঙ ধারণ করলে সেদ্ধ করা মাংস সেই কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে এবং হালকা আঁচে অনবরত নাড়তে হবে। মাংসের রঙ গাঢ় কালো না হওয়া পর্যন্ত এই ভাজার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। তবে এ সময় সজাগ থাকতে হবে যেন কোনোভাবেই মাংস পুড়ে না যায়। নামানোর ঠিক আগে লবণের স্বাদ পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। ঘরোয়া আয়োজনে খাঁটি সরিষার তেলের ব্যবহার এই রেসিপিকে আরও বেশি সুগন্ধি ও মুখরোচক করে তুলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন