ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। দেশটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে রমজান মাসের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিদ্যাগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী ওই দিন আরব ও ইসলামী বিশ্বজুড়ে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব।
মূলত যেসব দেশ চাঁদ দেখার নিশ্চিত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মাস শুরু করে তাদের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরুর সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার বা আইএসি জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব চাঁদ দেখা মানদণ্ড অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ সংযোগ থেকে এতটাই কম সরে থাকবে যে তা খালি চোখে দেখা যাবে না। এমনকি উন্নতমানের টেলিস্কোপ বা ইমেজিং প্রযুক্তিতেও চাঁদ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।
জ্যোতির্বিদদের এই সিদ্ধান্ত ইবনে তারিক ও ফাদারিংহামসহ একাধিক স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরব অঞ্চল বা বৃহত্তর ইসলামি বিশ্বে কোথাও চাঁদ দৃশ্যমান হবে না। ফলে যেসব দেশ প্রত্যক্ষ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে হিজরি মাসের ঘোষণা দেয় তারা বুধবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করবে। এর ফলে বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ার যৌক্তিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে কিছু দেশ যদি বিকল্প কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করে তবে তারা বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর ঘোষণা দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে মঙ্গলবার বিকেলে একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটবে যা দক্ষিণ আফ্রিকা ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা যাবে। সূর্যগ্রহণের এই ঘটনাটি চাঁদ দেখার অসম্ভবতাকে আরও জোরালো করেছে। জ্যোতির্বিদরা ভুল চাঁদ দেখার দাবির ব্যাপারেও মানুষকে সতর্ক করেছেন কারণ ওই সময় পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান থাকবে যা অতীতে অনেকবার মানুষ চাঁদ ভেবে ভুল করেছে।
তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূলে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ওইদিন আবুধাবি ও মক্কায় সূর্যাস্তের পর প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত চাঁদ আকাশে থাকবে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে আরব বিশ্বের বড় একটি অংশ থেকেই তখন খালি চোখে চাঁদ দেখা যাবে। সৌদি আরবের শীর্ষ আলেম পরিষদের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বিন মানিসহ অনেক বিশিষ্ট আলেমও নিশ্চিত জ্যোতির্বিদ্যাগত জ্ঞানকে এ ধরনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জ্যোতির্বিদদের মতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার মাস শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন