আগস্ট ১, ২০২৬, ০১:০০ পিএম
রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও নেতৃত্ব মানবসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমানত। ইসলাম ধর্মে ক্ষমতাকে কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্থায়ী সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, বরং এর প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা কেড়ে নেন। কখন এবং কীভাবে এই পরিবর্তন ঘটবে, তা সম্পূর্ণ তাঁরই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি শাসকের নৈতিক দায়িত্ব।রাষ্ট্রক্ষমতা মানুষের কৌশল বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভরশীল মনে হলেও এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত। তাই ক্ষমতা অর্জনে অহংকার বা হারানোর পর হতাশার কোনো সুযোগ নেই, বরং সব অবস্থায় আল্লাহর বিধান মেনে চলা জরুরি। কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে বিচারকালে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা শাসকদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
শাসক যদি ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জুলুমের হাতিয়ার বানায়, তবে সে মূলত আমানতের খেয়ানত করে।ইসলামের ইতিহাস ও কোরআনের বিভিন্ন বর্ণনায় অতীতে সীমালঙ্ঘনকারী পরাক্রমশালী জাতিগুলোর পতনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। আদ, সামুদ ও ফেরাউনের মতো সভ্যতাগুলো শক্তি ও সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সীমা লঙ্ঘন করায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
এতে স্পষ্ট হয় যে রাষ্ট্র ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং অন্যায়ের পরিণতি অবধারিত।সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সততা, জবাবদিহি, পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্বল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন