জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক বিতর্কিত ফাউল এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কেন লাল কার্ড দেওয়া হলো না, তা নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পক্ষ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেসির করা ওই ফাউলটিকে গুরুতর ফাউল বা সিরিয়াস ফাউল প্লে বলে মনে হয়নি এবং এই কারণেই তাকে লাল কার্ড দেখানো থেকে বিরত থাকা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা তীব্র বিতর্ক করছেন, তাদের জন্য ফুটবল মাঠের আরও বেশ কয়েকটি একই ধরনের ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন আশরাফ হাকিমি যখন ভিনিসিয়াস জুনিয়র্কে ফাউল করেছিলেন, তখন সেটিকে সাধারণ ফাউল হিসেবেই গণ্য করা হয়নি, ফলে কার্ড বা গুরুতর ফাউলের কোনো প্রশ্নই সেখানে ওঠেনি। একইভাবে আমেরিকা বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচেও হুবহু একই ধরনের একটি ট্যাকল দেখা গিয়েছিল, যেখানে রেফারিরা সেটিকে গুরুতর ফাউলের আওতায় নেননি এবং কোনো কার্ড প্রদর্শন করেননি।
পর্তুগালের একটি ম্যাচেও স্লাইডিং ট্যাকলের ঘটনাটি দেখে গুরুতর ফাউল মনে হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। এমনকি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের একটি ম্যাচে কাই হাভার্টস যখন একই রকম ট্যাকল করেছিলেন, সেটিও গুরুতর ফাউল প্লে হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সেনেগাল ও ফ্রান্সের ম্যাচে পেনাল্টি অঞ্চলের ভেতরে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে একইভাবে ট্যাকল করা হলেও কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। আবার হাইতি বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে, তবে সেখানে প্রতিপক্ষের পা মাটির ওপরে থাকায় আঘাতের তীব্রতা অতটা বেশি ছিল না এবং সেটিও কার্ডের আওতাভুক্ত হয়নি।
এখানে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে কেবল একটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এবং বাকি সবগুলোই এই বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল, যার একটিতেও রেফারিরা কোনো কার্ড দেখাননি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ওপর আশরাফ হাকিমির ফাউলটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ফুটবল বিশ্বে মেসির ঘটনাটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি শোরগোল হচ্ছে। ফিফার ফুটবল আইন অনুযায়ী গুরুতর ফাউল প্লে বা লাল কার্ড নির্ধারণের জন্য মূলত ৩টি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা হয়, যার প্রথমটি হলো অতিরিক্ত শক্তি বা এক্সেসিভ ফোর্সের ব্যবহার, দ্বিতীয়টি হলো নিষ্ঠুর বা ব্রুটাল চ্যালেঞ্জ এবং তৃতীয়টি হলো প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা বিপন্ন করা। এই ৩টি শর্তের যেকোনো ১টি পূরণ হলেই রেফারি কার্ড দেখাতে পারেন।
এছাড়া পা সোজা রেখে ট্যাকল করা এবং গোড়ালির ওপরের অংশে আঘাত করাও গুরুতর ফাউলের বড় লক্ষণ, যা মেসি ও ভিনিসিয়াসের ফাউলসহ আমেরিকা ও পর্তুগালের ম্যাচেও স্পষ্ট ছিল। এত কিছুর পরও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিরা কেন কোনো কার্ড দিলেন না, তার প্রধান কারণ হলো খেলোয়াড়ের ইনটেনশন বা খেলার উদ্দেশ্য। এই বিশ্বকাপে রেফারিরা নিয়মের চেয়ে খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্যকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন যে, ট্যাকলটি কি বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নাকি প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার জন্য করা হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, মেন্দির সাথে মেসির শারীরিক সংঘর্ষটি মূলত খেলার গতি, শারীরিক ভারসাম্য এবং পজিশনিংয়ের কারণে দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে, কোনো ইচ্ছাকৃত বা বিপজ্জনক আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়। তাই অন-ফিল্ড রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিরা এটিকে গুরুতর ফাউল হিসেবে গণ্য না করে খেলার স্বাভাবিক গতি হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন