রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণ: দর্শনীয় স্থান ও গাইড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণ: দর্শনীয় স্থান ও গাইড

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বরাবরই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। বিশেষ করে ঈদের লম্বা ছুটিতে ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু মুক্তি পেতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন নীল জলরাশির এই জনপদে। ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামানুসারে পরিচিতি পাওয়া এই জেলা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। 

যারা এবারের ঈদে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য শুধু সমুদ্রসৈকত ছাড়াও দেখার মতো রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। শহরের ভেতরেই রয়েছে শাহ সুজার আমলে নির্মিত প্রাচীন আজগবি মসজিদ এবং অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাংয়ের মতো ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ স্থাপনা। 

এছাড়া সমুদ্রতলের রহস্যময় জগত ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী দেখতে পর্যটকরা ঘুরে আসতে পারেন দেশের প্রথম সি-অ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড থেকে, যেখানে বিরল প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা মেলে।

কক্সবাজার ভ্রমণের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত। তবে কোলাহল এড়িয়ে নির্জনতা উপভোগ করতে চাইলে পর্যটকরা বেছে নিতে পারেন হিমছড়ি বা ইনানী সৈকত। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই পথে যাত্রাপথে একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন পর্যটকদের বিমোহিত করে। 

হিমছড়ির পাহাড়চূড়া থেকে পাখির চোখে পুরো সমুদ্রসৈকত দেখার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ইনানীতে প্রবালের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া মেরিন ড্রাইভের পথে পাতুয়ারটেক, শামলাপুর ও শীলখালি সৈকতগুলো এখন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যারা রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য হিমছড়ি দরিয়ানগর পয়েন্টে রয়েছে প্যারাসেইলিংয়ের সুবর্ণ সুযোগ, যার মাধ্যমে আকাশ থেকে সমুদ্র দেখার অনন্য অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব।

প্রকৃতি ও ইতিহাস প্রেমীদের জন্য পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী এবং রামুর বৌদ্ধবিহারগুলো চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। কক্সবাজার থেকে স্পিডবোটে মাত্র ১৫ মিনিটে মহেশখালী পৌঁছানো যায়, যেখানে আদিনাথ মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দির দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। অন্যদিকে রামুতে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি এবং ঐতিহাসিক রাংকোট বৌদ্ধবিহার। 

বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য দেখতে চাইলে ঘুরে আসা যায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে। প্রায় দুই হাজার একরের এই পার্কে বাঘ, সিংহ, হাতি ও হরিণসহ অসংখ্য প্রজাতির বণ্যপ্রাণী সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া টেকনাফের ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ এবং নাফ নদীর ওপার থেকে মিয়ানমার সীমান্তের দৃশ্য পর্যটকদের ভিন্ন এক অনুভূতির যোগান দেয়। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ জেটি থেকে নাফ নদীর মোহনা ও প্যারা বনের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ঢাকা থেকে বাস বা আকাশপথে সহজেই কক্সবাজার পৌঁছানো সম্ভব। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এসি ও নন-এসি বাস নিয়মিত চলাচল করে, যার ভাড়া সাধারণত ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। আকাশপথে যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট রয়েছে। থাকার জন্য কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট থাকলেও ঈদের মৌসুমে আগেভাগে বুকিং দেওয়া প্রয়োজন। 

রাত্রিযাপনের খরচ হোটেলের মানভেদে এক হাজার থেকে শুরু করে ষাট হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে সমুদ্রসৈকতে নামার সময় অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময়সূচী এবং সি-সেইফ লাইফ গার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সৈকতে অবস্থিত জেলা প্রশাসনের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।