এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতর, স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ী কন্যা রাঙামাটি। জেলার প্রায় সব কটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট ছিল শতভাগ বুকিং। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবারের ছুটিতে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, এই লম্বা ছুটিতে জেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সড়ক আর কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির মিতালী উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।
হ্রদের বুকে ছোট ছোট দ্বীপে গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলো এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদে নৌকাভ্রমণ, কায়াকিং এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দেখা গেছে। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক ও সাজেক ভ্যালিসহ প্রতিটি স্থানেই ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
গাজীপুর থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা পর্যটক সাদিয়া ইসলাম বলেন, অনেক দিন পর লম্বা ছুটি পাওয়ায় রাঙামাটিতে বেড়াতে এলাম। এখানকার পাহাড় আর হ্রদ দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। শুধু ঘুরে বেড়ানোই নয়, পাহাড়ীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ নানা শৌখিন জিনিসপত্র কেনাকাটা করেছি। পর্যটন মৌসুমের শেষ দিকে এমন পর্যটকের চাপে খুশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ভাসমান ফল বিক্রেতা সাধন চাকমা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
আবাসন খাতের ব্যস্ততা সম্পর্কে রাঙামাটির অর্ধশতাধিক হোটেল-মোটেল ও দেড় শতাধিক রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের কক্ষগুলো আগে থেকেই বুকড ছিল। মায়াবী দ্বীপের পরিচালক রিকো খীসা জানান, সব কটেজ বুকিং থাকায় পর্যটকদের চাপ সামলাতে তাদের বাড়তি তাঁবুর ব্যবস্থা করতে হয়েছে। হাউজ বোটের মালিক বাপ্পি তঞ্চগ্যা বলেন, রমজান মাসে ব্যবসায় যে মন্দা ছিল, এই লম্বা ছুটিতে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। তাদের সবগুলো হাউজ বোটেই পর্যটকদের অগ্রিম বুকিং ছিল।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনসুর রশিদ মামুন জানান, এই ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যটক রাঙামাটিতে এসেছেন। তার মতে, একজন পর্যটক যদি গড়ে ৫ হাজার টাকাও খরচ করেন, তবে এই কয়েক দিনে পর্যটন খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মানুষ সপরিবারে নির্ভয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন। চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি জেলায় প্রায় সাত হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন