বিপুল সরকার সানি
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:১০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
বাংলাদেশকে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষকদের দেশি জাতের বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার। তিনি জানান, প্রতি বছর ভারত থেকে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ কোটি টাকার পাটবীজ আমদানি করতে হয়।
দিনাজপুরের নশিপুরস্থ পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
বিজেআরআই উদ্ভাবিত পাটের উন্নত জাত এবং বীজ উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।কৃষকদের জন্য বিশেষ আশ্বাস: মহাপরিচালক বলেন,
পাট থেকে শুধু আঁশ উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকরা যদি লোকসানের মুখে পড়েন, তবে তারা পাটবীজ উৎপাদন করতে পারেন। কৃষকরা বীজ উৎপাদন করে আমাদের দিলে সরকার সরাসরি তাদের কাছ থেকে তা কিনে নিবে।" তিনি আরও যোগ করেন, নিজের বীজ নিজে উৎপাদন করতে পারলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।পরিবেশ ও মাটির সুরক্ষায় পাট: পাটের বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরে ড. নার্গীস আক্তার বলেন, পাট একটি অর্থকরী ফসল হওয়া ছাড়াও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকার চাচ্ছে কৃষকরা যাতে করে দেশে উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো চাষাবাদ করেন।অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক: বিজেআরআই-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. একেএম শাহাদৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. ইয়ারউদ্দিন সরকার, ড. নজরুল ইসলাম এবং ড. বাবুল হোসেন। প্রশিক্ষণ শেষে মহাপরিচালক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা পাট বীজের মাঠ পরিদর্শন করেন। একই দিনে উচ্চফলনশীল পাট, কেনাফ ও সবজি মেস্তা জাতের বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে এক মাঠ দিবস উদযাপিত হয়।