রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিনাজপুরে ফুলকপির ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপাকে কৃষকরা

মো. ফরহাদ হোসেন

জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

দিনাজপুরে ফুলকপির ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপাকে কৃষকরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ফুলকপির বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বাজারে ন্যায্য মূল্য না থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে কপি বিক্রি করতে হওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট করছেন অথবা গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।

উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে আট বিঘা জমিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ফুলকপি আবাদ করেছেন।

কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় লাখ টাকার কপি বিক্রি করতে পেরেছেন। এখনও তাঁর সাড়ে তিন লাখ টাকা লোকসান।

একই এলাকার কৃষক মো. বিল্লাল হোসেন ৫ একর জমিতে কপি চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, “প্রতি পিস কপি ৩ থেকে ৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না। বিক্রি করতে না পেরে এখন হাল চাষ করে জমি খালি করা ছাড়া উপায় নেই।বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৭০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি এবং ২৮৫ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছে।

ফলন ভালো হলেও হঠাৎ বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এবং উপযুক্ত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে এই দরপতন ঘটেছে।স্থানীয় যুবক আবু রায়হান জানান, অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে আবাদ করেছেন। এখন সেই ঋণ পরিশোধের চিন্তায় তাঁরা দিশেহারা। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে লোকসান হতে থাকলে আগামী মৌসুমে সবজি চাষে আগ্রহ হারাবেন তাঁরা, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। দ্রুত সবজি সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।