অলিউর রহমান মিরাজ
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
বাড়ির আঙিনা কিংবা অফিস প্রাঙ্গণে অযত্নে পড়ে থাকা পতিত জমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগালে যে তা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে আগাছায় পূর্ণ উপজেলা পরিষদ চত্বরের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমি এখন পরিণত হয়েছে টাটকা ও বিষমুক্ত সবজির এক সবুজ বাগানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অনাদরে পড়ে থাকা জঙ্গলপূর্ণ জমিটি এখন সবুজে শ্যামলে ভরা। ইউএনও’র পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেখানে চাষ হচ্ছে শসা, লাল শাক, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে পরিচর্যা করায় ফলনও হয়েছে বেশ সন্তোষজনক।
কীটনাশকমুক্ত এসব সবজি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে উপজেলা চত্বরের পরিবেশ ও সৌন্দর্যও বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, “ইউএনও স্যারের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফলে মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে এবং এটি অন্যদের জন্য একটি ‘মডেল’ হয়ে উঠেছে।”
উদ্যোক্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “সরকারি দপ্তরের পতিত জমি এভাবে কাজে লাগালে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে উপজেলার অন্যান্য সরকারি দপ্তরের পতিত জমিতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে ওঠা এই সবজি বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা। অফিস প্রাঙ্গণে এমন উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড দেখে অনেকেই নিজ বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।