শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে বিটল পোকা: লাভজনক ব্যবসা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৫, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে বিটল পোকা: লাভজনক ব্যবসা

হাত ভর্তি পোকা। কেউ কেউ হাঁটছে, কেউবা পাত্রের নিচে পড়ছে। প্রতিটি পোকা যেন একেকটি নগদ টাকার উৎস। হাঁস ও মুরগির আদর্শ খাদ্য হিসেবে পরিচিত এই বিটল পোকা চাষ করে এখন মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও হাতের নাগালে থাকা উপকরণে এটি শুরু করা যায় বলে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গার্মেন্টসে চাকরির পাশাপাশি বিটল পোকা চাষ শুরু করেন একজন উদ্যোক্তা। ২০২১ সাল থেকে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। শুরুর দিকে বন্ধুর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের ঘরেই ছোট পরিসরে শুরু করেছিলেন এই চাষ। এখন তার মাসিক আয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে ২০-২৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

পোকা চাষের বিশেষত্ব হলো এতে দুর্গন্ধ নেই। যে কোনো ছোট ঘরে বা নির্দিষ্ট পাত্রে অনায়াসেই এই চাষ করা সম্ভব। সাধারণত হাঁস-মুরগির খাবারের জন্য লার্ভা বা পোকা উৎপাদন করা হয়। প্যারেন্টস বা মা পোকা থেকে ডিম, এরপর পিউপা এবং সর্বশেষ লার্ভা ধাপে ধাপে উৎপাদন সম্পন্ন হয়।

প্যারেন্টস পোকা থেকে লার্ভা হতে সময়ের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। লার্ভাগুলো তিন থেকে সাড়ে তিন মাস বয়স হলে আবার নতুন করে প্যারেন্টস হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। একটি লার্ভা বিক্রির উপযোগী করতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই মাস। খরচও বেশ কম। ২০০ মা পোকা বা প্যারেন্টস থেকে মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি লার্ভা পাওয়া সম্ভব।

এক কেজি লার্ভার দাম বাজারে প্রায় দুই হাজার টাকা। অথচ উৎপাদনের জন্য ভূষি বা লাউজাতীয় সামান্য খাবারের পেছনে ব্যয় হয় মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তাই বিনিয়োগের তুলনায় মুনাফার হার অনেক বেশি। শখের বসে শুরু করা এই ব্যবসায় এখন অনেকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

অনলাইনে প্রচারের পর মানুষ এখন এই চাষের বিষয়ে জানছে। আগে অনেকে বিষয়টিকে অস্পষ্ট মনে করলেও এখন বাস্তব রূপ দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ঘরে বসে বাড়তি উপার্জনের জন্য এই পদ্ধতিটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য পথ হয়ে উঠেছে।