শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পোল্ট্রি খামারে কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য বদলানো এক শ্রমিকের গল্প

কৃষি ডেস্ক

জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

পোল্ট্রি খামারে কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য বদলানো এক শ্রমিকের গল্প

কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের দিনমজুরি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদে পোল্ট্রি খামার ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন এক গ্রামীণ খামারি। বিগত ৭ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। এর আগে তিনি ধানের মাঠে কাজ করা, খোলার লেবারি, ঘরবাড়ির কাজ এবং জমিতে লাঙল টানার মতো নানা ধরনের কঠোর শ্রমসাধ্য পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে একপর্যায়ে তিনি অন্যের অধীনে দিনমজুরি খাটার কাজ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।মাঠের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা এবং অন্যান্য ফসল বিক্রি করা জমানো ৮০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু হয় তার নতুন পথচলা।

শুরুতে খামার পরিচালনা কিংবা এই ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ধারণা তার একদমই ছিল না। স্থানীয় এক ডিলারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি সাহসের ওপর ভর করে প্রথম দফায় ৫০০ মুরগির বাচ্চা কিনে খামারের কাজ শুরু করেন। 

সেই ডিলারই তাকে বাচ্চা সরবরাহ, মুরগির খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিয়মিত চিকিৎসক দিয়ে খামার দেখাশোনার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রথম চালানেই সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিশ্চিত লাভ হওয়ায় তার কাজের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যবসার লাভ থেকে তিনি নতুন ঘর তৈরি করে খামারে একবারে ৮০০ পর্যন্ত মুরগি পালনের সক্ষমতা তৈরি করেন।প্রথম ৩ থেকে ৪ বছর বেশ ভালো মুনাফার মুখ দেখলেও সাম্প্রতিক সময়ে পোল্ট্রি ব্যবসায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

পোল্ট্রি ফিড বা মুরগির খাবারের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে খামারিদের উৎপাদন খরচ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। অতীতে যে খাবারের বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমান বাজারে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় ঠেকেছে। বর্তমানে খামারের নতুন চালানের মুরগিগুলো বিক্রির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে এবং আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সেগুলো বাজারে বিক্রি করা হবে। বাজারে ফিডের অস্বাভাবিক দাম এবং লোকসানের চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজের স্বাধীন পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার আশা নিয়ে তিনি খামার পরিচালনা করে যাচ্ছেন।