বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

আগাম ফুলকপি চাষের বেড তৈরির সঠিক কৌশল ও সারের ব্যবহার

কৃষি ডেস্ক

জুলাই ৫, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

আগাম ফুলকপি চাষের বেড তৈরির সঠিক কৌশল ও সারের ব্যবহার

আগামী বিশ্বকর্মা ও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কৃষকরা বর্ষাকালীন আগাম ফুলকপি চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং এই সময়ে সঠিক নার্সারি ও বেড তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বীজতলায় চারা ফেলার কাজ সম্পন্ন করতে হবে কারণ চারা তৈরি হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে এবং পুজোর আগে অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ভালো ফলন পেতে হলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে চারা রোপণ করা প্রয়োজন। 

চারা ফেলার আগে বীজতলার উপরে বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ত্রিপল বা ছাউনি দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত জল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যাতে চারাগুলো সুস্থ থাকে। অন্যদিকে মূল জমিতে চারা রোপণের জন্য এখন থেকেই বেড তৈরির কাজ শুরু করতে হবে এবং এক্ষেত্রে চওড়া কোদাল ব্যবহার করে এক হাত চার আঙুল চওড়া ডাবল বেড তৈরি করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। 

বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সিঙ্গেল বেডের মাটি ধুয়ে চারার গোড়া পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে কিন্তু ডাবল বেড হলে দুই পাশে চারা রোপণ করা যায় এবং মাঝের মাটি শিকড়কে সুরক্ষিত রাখে যার ফলে চারার বৃদ্ধি ভালো হয় ও বিঘা প্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ চারা বেশি লাগানো সম্ভব হয়। মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে রাখার পাশাপাশি বেডের দুই পাশে এবং মাঝখানে সঠিক জল নিষ্কাশনের জন্য লম্বা ড্রেন রাখা বাধ্যতামূলক যাতে বৃষ্টির জল জমতে না পারে। সার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চারা রোপণের যদি এক মাস সময় বাকি থাকে তবে এখনই জমিতে অন্যান্য সার না দিয়ে বিঘা প্রতি ৩০ কেজি সিঙ্গেল সুপার ফসফেট ছড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যা ক্যালসিয়াম ফসফরাস ও সালফারের ঘাটতি মেটাবে। 

তবে যাদের চারা ১৫ দিনের মধ্যে রোপণের উপযোগী হয়ে যাবে তারা বিঘা প্রতি ২৫-৩০ কেজি ১৪-৩৫-১৪ সার অথবা ২০-২৫ কেজি ডিএপি এর সাথে ১০ কেজি পটাশ মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন এবং জৈব সার হিসেবে এক ট্রলি গোবর সারের সাথে ১২-১৫ কেজি সরিষার খোল মিশিয়ে দিলে জমির উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বীজতলার জন্য বাঁশ বা চটা দিয়ে দেড় হাত উঁচু মজবুত ছাউনি তৈরি করতে হবে যার চারদিক খোলা থাকবে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ফুলকপির পর বাঁধাকপির চারাও সেখানে নিরাপদে তৈরি করা যায়। সঠিক সময়ে চারা রোপণ ও উন্নত বেড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা এই বর্ষায় আগাম ফুলকপি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।