আগস্ট ৯, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে জমি প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। চারা রোপণ বা স্থানীয় ভাষায় রোয়া করার আগে জমি সঠিকভাবে কর্ষণ না করলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। মাটির প্রকৃতি এবং আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে জমিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক হাল চাষ ও মই দিতে হয়, যাতে মাটি পুরোপুরি ঝুরঝুরে ও কাদাময় হয়।মাটি উর্বর রাখতে এবং সঠিকভাবে চারা স্থাপন করতে সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করা জরুরি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধান চাষের জন্য সাধারণত জমিতে চার থেকে পাঁচটি চাষ ও মই দিতে হয়। তবে মাটির ধরন এঁটেল বা দোআঁশ হলে চাষের সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে। প্রথম দিকে শুকনো বা আদ্র মাটিতে আড়াআড়িভাবে চাষ দিয়ে মাটির নিচের অংশ ওপরে এনে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। এর পর পর্যাপ্ত পানি সেচ দিয়ে মাটি থকথকে কাদা তৈরি করতে হয় যাতে চারা সহজে শেড় বা শিকড় ছড়াতে পারে।
জমি তৈরির শেষ চাষের সময় সুষম মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। গোবর বা কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি টিএসপি, এমওপি এবং জিপসাম সার শেষ চাষের সময় মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এর ফলে গাছের শিকড় পুষ্টি উপাদান সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
জমি অসমান থাকলে মই দিয়ে ভালোভাবে সমান করে নিতে হবে, কারণ জমি উঁচু-নিচু থাকলে পানি সমানভাবে ধরে রাখা যায় না।সঠিকভাবে কাদা তৈরি করে চারা রোপণ করলে আগাছার উপদ্রব কমে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জমি তৈরি এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কৃষকরা ধানের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন