ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে এখন গমের সবুজ সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে কচি গমের শীষ, যা দেখে সোনালি ফসলের হাসির প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো সেচ ও সারের যথাযথ ব্যবহারে এবার গমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামসহ ভোগনগর, শিবরামপুর ও সাতোর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে সবুজের আভা কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামের কৃষক মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, ধানের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল হিসেবে এবার তিনি গমের আবাদ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার গমের আবাদ কিছুটা বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ বপন ও পরবর্তী পরিচর্যায় কৃষকরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।
গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় এবার বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সাধারণ চাষীরা। তবে সেচ ও সারের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো কৃষকের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও লক্ষ্য করা গেছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে মোড়া প্রতিটি ক্ষেত কৃষকদের পরিশ্রমের সাক্ষ্য দিচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় এবং আবহাওয়া এমন স্থিতিশীল থাকে, তবে এবার গমের বাম্পার ফলন হবে।
লাভজনক এই ফসল ঘরে তুলতে এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বীরগঞ্জের কয়েক হাজার কৃষক। বাজারে গমের ভালো দাম পাওয়া গেলে ধানের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গম চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে বীরগঞ্জের গমের মাঠে এখন সম্ভাবনার সবুজ ছোঁয়া। ভালো ফলনের মাধ্যমে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন