আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বিশেষ করে গরু পালন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে বহু আগে থেকেই সমাদৃত। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প সময়েই খামারিরা আর্থিকভাবে দারুণভাবে লাভবান হতে পারেন। গরু পালনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জাত নির্বাচন থেকে শুরু করে বাসস্থান নির্মাণ ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমেই মূলত একটি সফল ও টেকসই গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলা সম্ভব হয়।গরু পালনের জন্য প্রথমেই উঁচু ও শুষ্ক স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ একটি পাকা বা আধাপাকা গোশালা তৈরি করতে হবে। গোয়ালঘর সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মশা-মাছিমুক্ত রাখতে হবে যাতে প্রাণীরা সুস্থ থাকে।
দুধ উৎপাদনের জন্য শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান বা দেশি উন্নত জাতের গরু নির্বাচন করা যেতে পারে। অন্যদিকে মাংস উৎপাদনের জন্য ব্রাহমা বা স্থানীয় জাতের সুগঠিত গরু বেশ উপযোগী। গরুর সুষম খাদ্যের তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচা ঘাস, দানাদার খাদ্য, খড় এবং পরিমিত পরিষ্কার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়মিত টিকাদান এবং কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরুকে বিভিন্ন মারাত্মক রোগবালাই থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। খামারে কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা উচিত। এছাড়া খামারের বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করে জৈব সার তৈরি করলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা এই খাতে সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন