অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম
কুষ্টিয়ায় কেঁচো থেকে উৎপাদিত জৈব সার 'ভার্মি কম্পোস্ট'-এর উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হয়েছে। যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কুমারখালি উপজেলার ২০ জন কৃষক এই কার্যক্রম শুরু করেছেন, যা এখন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবেও বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার কুশলিবাসা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা রইসউদ্দিন তার বাড়ির আঙ্গিনায় এই সার তৈরি করছেন। গবাদি পশুর বর্জ্য থেকে কেঁচোর খাবার তৈরি হয় এবং সেই খাবার খেয়ে কেঁচো যে মল ত্যাগ করে, তা-ই উৎকৃষ্ট মানের ভার্মি কম্পোস্ট সার। রইসউদ্দিন এই সারের গুণমান পরীক্ষার জন্য নিজের আদা চাষে এটি ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছেন, যা রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, এই জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা শক্তি ও ফসলের উৎপাদন বাড়ছে এবং রাসায়নিক সারের ক্ষতি থেকে মাটি রক্ষা পাচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের চাষীদের মাঝে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চমূল্যের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে চাষীরা এখন ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। উদ্যোক্তারা জানান, মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই সার উৎপাদন করা যায়।
উদ্যোক্তা রইসউদ্দিন প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষ টাকার সার বিক্রি করেছেন এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কুমারখালি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ থেকে ১৫ জন করে ভার্মি কম্পোস্ট উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রাকৃতিক সারের ব্যবহার দেশজুড়ে বাড়াতে পারলে তা দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন