জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। বঞ্চনা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার বাইশারী বাজার সংলগ্ন নূরানী ক্যাডেট মাদরাসার সামনে এক অনুষ্ঠানে তারা বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও ওই আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাস্টারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলটিতে যোগ দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে বিএনপির এই বড় ধরণের ধস স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতাদের তালিকায় রয়েছেন— বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার, বানারীপাড়া পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্ফার হোসেন।
পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি সিদ্দিক মল্লিক এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর সঙ্গে মাহবুব মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত জুলাইয়ের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের পদ না পাওয়া এবং চলমান নির্বাচনি প্রচারণায় মাহবুব মাস্টার ও তার অনুসারীদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার প্রতিবাদে তারা এই গণ-পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “চার দশক ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দল করেও আমরা আজ লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। দলে এখন টাকায় মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থীর স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্মীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের কারণে তারা এখন আর এই দলে নিরাপদ বোধ করছেন না। নিগৃহীত হয়েই তারা জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং আব্দুল মান্নান মাস্টারের ক্লিন ইমেজের প্রতি আস্থা রেখে নতুন করে পথচলা শুরু করেছেন।
এদিকে বিএনপির তৃণমূলের এই ভাঙনে নড়েচড়ে বসেছে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, মাহবুব মাস্টারের পদত্যাগের বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং তার অভিমান ভাঙিয়ে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে’। তবে মাহবুব মাস্টারের অনুসারীদের দৃঢ় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বানারীপাড়ায় বিএনপির ভোট ব্যাংকে বড় ধরণের ফাটল ধরতে যাচ্ছে, যা সরাসরি জামায়াত প্রার্থীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন