জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
পঞ্চগড় জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী। যেখানে স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দেড় শতাধিক পথশিশু। যাদের অনেকেরই নেই পারিবারিক পরিচয়, নেই কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা। দাতা সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে এসব শিশুর উন্নত খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা টান পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুয়াশাভেজা সকালে এই শিশুদের মাঝে শীতের আমেজ ও পরম মমতা নিয়ে হাজির হলেন ‘গরিবের বন্ধু’ খ্যাত সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব সরকার।
তিনি নিজ হাতে বাড়ি থেকে তৈরি করে আনা দুধ-পুলি পিঠা এই শিশুদের খাইয়েছেন। পিঠা খেয়ে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে শিশুদের মুখে। এই শিশু নগরীতে শিশুদের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয়। যেমন—সিলেটের রবিন এখানে পরিচিত ‘রবিন চার’ নামে, কিংবা কেরানীগঞ্জের ইয়াছিন পরিচিত ‘ইয়াছিন দশ’ হিসেবে।
পিঠা খাওয়ার পর শিশুরা উচ্ছ্বাসের সাথে জানায়, "এখানে তো বাড়ির মতো সব পাওয়া যায় না, আজ পিঠা খেয়ে আমরা খুব খুশি।"শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, "এখানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ শিশুই এতিম। আগে দাতা সংস্থার অর্থায়ন থাকলেও এখন তা বন্ধ। সীমিত বাজেটে আমাদের চলতে হয়, তাই ইচ্ছে থাকলেও সব সময় ভালো খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। আহসান হাবীব সরকারের মতো সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।
স্বেচ্ছাসেবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব সরকার বলেন, "এই শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। শীতের মৌসুমে তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে নিজের বাড়ি থেকে পিঠা নিয়ে এসেছি। আমার সন্তানের মতো এই শিশুরাও যেন অবহেলিত না থাকে, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পাশে থাকা। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে একটি সত্যিকারের মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।"


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন