ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার ও তদন্তের তদারকিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন মাধবদী এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইমরান দেওয়ান রয়েছেন। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ এবং গাফফারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ৫ জনের মধ্যে দুইজন সরাসরি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এবং বাকি তিনজন গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ বাকিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি জানার পরপরই তিনি প্রশাসনের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি জেলা আইনজীবী সমিতি ও পিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আসামিরা কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না পায়। অপরাধীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পাশাপাশি তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে নিহত তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফরিদা গুলশানা কবিরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর মা, ভাই ও সৎ বাবা বর্তমানে মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দাফনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পুরো এলাকাটিতে বর্তমানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন