মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সলুইসগেট সেতু গত ছয় মাস ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ। কুচিয়া মোড় ও বন্দরপাড়া এলাকায় মামা-ভাগিনা খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে যানবাহন চলাচল বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট রাতে প্রবল বর্ষণ ও খালের তীব্র স্রোতে সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যায় এবং একই সঙ্গে সলুইসগেটটি দেবে যায়।
২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা এলজিইডি কুচিয়ামোড়-তালমাচ্ছপাড়া উপপ্রকল্পের অধীনে জনস্বার্থে এটি নির্মাণ করেছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এটি এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে আছে।
সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই অঞ্চলের কৃষি খাত। কৃষিপণ্য পরিবহন করা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতেও বিপাকে পড়ছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় তারা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোনো জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে এখন কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়, যা সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খালের ওপর একটি অস্থায়ী কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাঠের এই নড়বড়ে সাঁকোটি পারাপারের সময় কাঁপতে থাকে এবং মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়ে। ছোট শিশু ও হালকা যানবাহন নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এই বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে বিভাগীয় পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন