মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:১০ এএম
গাজীপুরের ভবানীপুরে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী যুবক ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি স্থানীয় একটি কওমী মাদ্রাসার হাফেজী বিভাগের ছাত্র ছিল এবং তার পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।পিবিআই সূত্রে জানা গেছে যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাসা ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রনি।
পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলে তার অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এই ঘটনায় নিহতের দাদা মো. তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে সে রনিকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে ছাব্বির জানায় যে ঘটনার রাতে সে জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিল যা রনি দেখে ফেলে এবং অন্যদের বলে দেওয়ার হুমকি দেয়।বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ছাব্বির কিশোর রনিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ঘাড় মটকে ও গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরে নিজের অপরাধ আড়াল করতে নিহতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পিবিআই জানিয়েছে যে এটি একটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস মামলা ছিল কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। নিহত রনির মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন