রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান ও মেলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

পঞ্চগড়ে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান ও মেলা

করতোয়ায় বারুণী মহাস্নান। ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর তীরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বারুণী মহাস্নান উৎসব এবং সাত দিনব্যাপী বারুণী মেলা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সূর্যোদয়ের পর থেকেই করতোয়া নদীর তীরবর্তী বোয়ালমারী মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর ঢল নামে। উৎসবের প্রথম দিনেই যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাস্নান ও বিশেষ পূজার্চনা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে আজীবনের পাপ মোচন হয়। এই পুণ্যফল লাভ এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রতিবারের মতো এবারও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্ন্যাসীরা করতোয়া তীরে সমবেত হয়েছেন। 

পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে নদীতে পিন্ডদান ও তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানান। গঙ্গাস্নান শেষ করে তারা মেলা প্রাঙ্গণের মন্দিরে পূজা ও আরাধনায় অংশ নেন।

স্নানোৎসবে আসা ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা জানান, বারুণী স্নান কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের কাছে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার মাধ্যমে এই উৎসব এক আনন্দময় উৎসবে রূপ নেয়। বিশেষ করে উত্তরমুখী স্রোতের পবিত্রতা রক্ষা করে প্রার্থনা করাই এই মহাস্নানের মূল উদ্দেশ্য।এদিকে স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে বিশাল বারুণী মেলা। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য অখিল চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহায়তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

স্নানোৎসব তিন দিন চললেও লোকজ ঐতিহ্যবাহী এই মেলা চলবে টানা এক সপ্তাহ। মেলায় ঘরোয়া তৈজসপত্র, কসমেটিকস, খাবার এবং শিশুদের খেলনার শত শত দোকান বসেছে। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, সার্কাস ও মোটরসাইকেল খেলাসহ নানা আয়োজন রয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো বোয়ালমারী এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।