বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

লাইনে কাজ চলাকালেই বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রাণ গেল শাহিনের

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

লাইনে কাজ চলাকালেই বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রাণ গেল শাহিনের

ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের লাইন মেরামত করতে গিয়ে নূর ইসলাম শাহীন নামে এক লাইনম্যান সহকারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ধাক্কামারা গোল চত্বর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শাহীন দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নূর ইসলাম শাহীন তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার জয়নউদ্দিনের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় নেসকোতে (NESCO) চুক্তিভিত্তিক লাইনম্যান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে পঞ্চগড়ের বিসিক ফিডারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ওই ত্রুটি মেরামতের জন্য নেসকোর পাঁচজন কর্মী ধাক্কামারা গোল চত্বরে আসেন। শাহীন মই বেয়ে খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। এতে শাহীন তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটিতেই আটকে যান। দীর্ঘ ১৫ মিনিট ওই অবস্থায় ঝুলে থাকার সময় তার মুখ দিয়ে অনবরত রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক শাহীনকে মৃত বলে জানান।

এই ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের দাবি, লাইনে কাজ চলাকালীন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্বজনরা প্রথমে হাসপাতালে লাশ দেখার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে পঞ্চগড় নেসকো অফিস ঘেরাও করেন। এক পর্যায়ে বিচারের দাবিতে তারা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং স্বজনদের বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন।

 খুঁটি থেকে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এদিকে নেসকো কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দাপ্তরিক গাফিলতির কারণে এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।