জুন ৩, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেকু বা এস্কাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদ শামীম হোসেন নামের ওই স্থানীয় বাসিন্দাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী এই আইনগত ও জনস্বার্থমূলক অভিযানটি অত্যন্ত সফলভাবে নেতৃত্ব দেন।নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ অবৈধ বালু খেকোদের দমনে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
আদালত সূত্রে সুনির্দিষ্টভাবে জানা গেছে যে অভিযুক্ত শামীম হোসেন কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ এলাকায় করতোয়া নদীর তলদেশ থেকে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলন করে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে আকস্মিক অভিযান চালালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০২৩ সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ভেকুটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করার পাশাপাশি জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আদায় করা হয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে অঞ্চলগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখা এখন সময়ের বড় দাবি।অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী গণমাধ্যমকে জানান যে নদীর তীরে বা গভীর তলদেশে অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলন ও পরিবহন করা দেশের প্রচলিত আইনে একটি মারাত্মক ও কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরও উল্লেখ করেন যে আইনি শুনানির সময় অভিযুক্ত শামীম নিজের মারাত্মক অপরাধ ও ভুল স্বীকার করে প্রশাসনের নিকট লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। স্থানীয় নদী ও জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের বিশেষ তদারকি ও শাস্তিমূলক টহল অভিযান অত্যন্ত জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন