জুলাই ২, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম policeে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভ করা নারী রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রাথমিক তদন্তে ওই নারীর আনা ঘুষের আর্থিক দাবির কোনো সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
গতকাল বুধবার দুপুরে তেঁতুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এজাহার দায়েরের পর ঘটনার আইনগত তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে।থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়েরকৃত এই মামলায় ফেসবুক লাইভকারী রেহেনা বেগম উর্মিকে প্রধান এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং তাঁর পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত মনোয়ার নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এই বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সায়েম জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এবং ঘটনার সামগ্রিক তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস. এম. ইমাম রাজী টুলু জানান, গত সোমবার অভিযোগকারী নারী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক তদন্তে ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি।
এর আগে সোমবার রেহেনা বেগম উর্মি দাবি করেছিলেন যে গ্রাম পুলিশে তাঁর ছেলের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল এবং সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলির খবর পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ক্ষোভে ফেসবুকে লাইভ করেন। তবে এই সম্পূর্ণ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, তিনি ওই নারীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেনই না এবং যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে তা অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছিল।
এমনকি অভিযোগকারীর ছেলের নামে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনও দপ্তরে জমা পড়েনি এবং পুরো ঘটনাটি তাঁর বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন