শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বান্দরবানে ফিরছে স্বাভাবিকতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৪, ২০২৬, ১০:১৮ এএম

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বান্দরবানে ফিরছে স্বাভাবিকতা

ছবি - সংগৃহীত বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

টানা প্রায় এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর বান্দরবানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মানুষ এখন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও, বাড়িতে ফিরে অনেকেই পেয়েছেন কেবল কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে।

ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেই পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, কয়েক দিন কর্মহীন থাকায় দিনমজুর, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সামনে দেখা দিয়েছে চরম অর্থসংকট। ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি সংসার চালানোর চাপ তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলায় লামা-আলীকদম অভ্যন্তরীণ সড়কে যোগাযোগ সচল হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি-আলীকদম ও লামা-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসে মাটি জমে থাকায় অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল এখনো ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন করে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। এই দুর্যোগে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সময়ে ৬ হাজার ২৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বুলবুল আকতার সেতু জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

ত্রাণ তৎপরতা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।