বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

মাগুরায় ফের ২০ ইউনিট বিদ্যুতে ২৯ হাজার টাকার বিল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

মাগুরায় ফের ২০ ইউনিট বিদ্যুতে ২৯ হাজার টাকার বিল

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক সাধারণ গ্রাহকের নামে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার অস্বাভাবিক বিল ইস্যু করার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী বাবু মোল্যা এই ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কারণে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। নিয়মিত স্বাভাবিক বিল পরিশোধ করে আসা গ্রাহকের কাছে এমন অঙ্ক রীতিমতো অবাস্তব।

ভুক্তভোগী বাবু মোল্যা জানান যে দীর্ঘদিন ধরে তার আবাসিক মিটারে প্রতি মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসত। তবে সদ্য প্রাপ্ত চলতি মাসের বিলের কাগজে দেখা যায় তিনি ব্যবহার করেছেন মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ, যার বিপরীতে মোট প্রদেয় বিলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা। কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া এমন আকাশচুম্বী বিলের কাগজ হাতে পেয়ে চরম বিস্ময় ও মানসিক চাপে পড়েন তিনি।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে যে এই অঙ্কের পেছনে পূর্বের বকেয়া সমন্বয়ের হিসাব রয়েছে। মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এসএম শাহিন আহসান জানান, গ্রাহকের পক্ষ থেকে দাপ্তরিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২০ ইউনিটের নিয়মিত খরচের সাথে পূর্ববর্তী ব্যবহৃত মিটারের একটি অমীমাংসিত বিল বিবিধ খাতে যুক্ত হওয়ার কারণেই মোট অঙ্কের পরিমাণ ২৯ হাজার ১৩৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সফটওয়্যারে যদি আগের মিটারের বিল আলাদা শিরোনামে প্রদর্শন করা যেত, তবে গ্রাহকদের এই বিভ্রান্তি তৈরি হতো না বলে স্বীকার করেন তিনি।

বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে এই বিপুল অর্থ পরিশোধের জন্য তিন মাসের অতিরিক্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী বাবু মোল্যার অভিযোগ, তিনি বিল সংশোধনের আবেদন নিয়ে দপ্তরে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এর আগেও মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম প্রশাসনিক গাফিলতির নজির তৈরি হয়েছিল। ইতিপূর্বে মোছা. আলেয়া খাতুন নামের এক আবাসিক গ্রাহকের মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকারও বেশি কাল্পনিক বিল ইস্যু করা হয়েছিল, যা দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেয়। পরবর্তীতে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেই অস্বাভাবিক ভুলের সত্যতা স্বীকার করে তা সংশোধন করেছিল।

পরপর এমন অস্বাভাবিক ও বিভ্রান্তিকর বিলিংয়ের ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিলিং সফটওয়্যারে অবিলম্বে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রতি মাসের বিলে বর্তমান ব্যবহৃত ইউনিট, পূর্বের বকেয়া বা অন্য কোনো সমন্বয় থাকলে তা আলাদাভাবে পরিষ্কার অক্ষরে উল্লেখ করার জোর দাবি উঠেছে, যাতে বিভ্রান্তি ও নাগরিক হয়রানি চিরতরে বন্ধ হয়।