মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। সোমবার বিকেল সোয়া তিনটা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোন্নাফ। মারা যাওয়া শিশুটি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির কন্যা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর দুইটার দিকে হামে আক্রান্ত শিশুটিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সে সময় পূর্বে করানো পরীক্ষার প্রতিবেদন কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হলে উপস্থিত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন প্রদান করেন। অভিযোগ করা হয়, ওষুধ প্রয়োগের কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে জরুরি কৃত্রিম অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও হাসপাতালটিতে কোনো অক্সিজেন সরবরাহ নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা উম্মে সালমার সরাসরি অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা এবং মারাত্মক অবহেলার কারণেই তার কন্যাসন্তানের অকালমৃত্যু ঘটেছে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও স্থাপনা ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃত শিশুর মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং আনীত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অবহেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার জানান, শিশুটি গত এক মাস ধরে তীব্র অসুস্থতায় ভুগছিল এবং এর আগেও বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নিয়েছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তিনি দাবি করেন, স্যালাইন চলাকালীন শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ পান করালে তা অসাবধানতাবশত শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 

শিশুটির লক্ষণ নিউমোনিয়ার মতো ছিল এবং সে প্রকৃতপক্ষে হামে আক্রান্ত ছিল কি না তা এখনো চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত নয়। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষের উসকানি রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোন্নাফ জানান, নিহত শিশুর স্বজনরা থানায় উপস্থিত হয়েছেন এবং তাদের সাথে কথা বলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর পূর্বেই ক্ষুব্ধ স্বজনরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কিছু সম্পদ ভাঙচুর করেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।