অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার বিকেলে প্রকল্পটি অনুমোদনের খবর এলাকায় পৌঁছালে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর থেকে সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের মীরগড় পয়েন্টে এই সেতুটি নির্মিত হবে। সেতুটি চালু হলে নদীর দুই তীরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, জরুরি চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যোগাযোগব্যবস্থা আগের চেয়ে বহুগুণ সহজ হয়ে উঠবে।
বর্তমানে করতোয়া নদীর ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু দিয়ে দুই পাড়ের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি দিয়ে পারাপারের সময় নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সেখানে পারাপার বাবদ ১০ টাকা করে দিতে হয়। বর্ষাকালে এবং ভারী যান চলাচলের সময় ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এছাড়া কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল স্থানীয় বাজারে নিতে এবং গুরুতর রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে তীব্র প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন।
সেতু অনুমোদনের খবর শুনে বুধবার বিকেলে মীরগড় বাজারে জড়ো হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পরস্পরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা জয় জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি নড়বড়ে কাঠের সেতু ব্যবহার করে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন সেতুটি তৈরি হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
আরেক বাসিন্দা আসিম উদ্দিন বলেন, এই সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য দ্রুত শহরে নেওয়া সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় শহরে যাতায়াত সহজ হবে বলে তারা অত্যন্ত আনন্দিত।
পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী জানান, মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে এবং ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা অনেক বেশি গতিশীল হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন