মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

আব্বাস প্রামাণিক চশমা ছাড়াই পড়তেন কোরআন: শেষ হলো ১২৩ বছরের যাত্রা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

আব্বাস প্রামাণিক চশমা ছাড়াই পড়তেন কোরআন: শেষ হলো ১২৩ বছরের যাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্যের শেষ পর্বেও চশমা ছাড়া স্বাভাবিক দৃষ্টিতে পবিত্র কোরআন পড়ার কারণে এলাকাজুড়ে পরিচিতি পাওয়া নাটোরের গুরুদাসপুরের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্বাস প্রামাণিক আর নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৩ বছর।

আব্বাস প্রামাণিক গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম প্রয়াত সদর উদ্দিন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন পাঠদান করিয়েছেন। দীর্ঘায়ু ও শতবর্ষ পেরিয়েও কোনো প্রকার চশমা ব্যবহার না করে স্পষ্ট অক্ষরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতে পারার বিরল সক্ষমতা তাঁকে স্থানীয়দের মাঝে এক বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা ও প্রার্থনায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নাতি রিপন হোসেন জানান, রোববার পর্যন্ত তাঁর দাদা পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। তবে সোমবার হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে খবর পাঠানো হলে সেখান থেকে চিকিৎসক এসে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেন। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময়ের জীবনযাত্রা শেষে সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনেই তিনি চিরবিদায় নেন। আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুর খবরটি তাঁর নাতি রিপন হোসেনের পাশাপাশি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ।

মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, ছয় ছেলে এবং বহুসংখ্যক নাতি-নাতনি ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।