ফাহিম হোসেন রিজু
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
সংসদীয় আসন দিনাজপুর-৬ (ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর) দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত এক জনপদ হিসেবে পরিচিত। বারবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জনপ্রতিনিধি বদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আজও কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।গত ১৭ বছর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল এবং তার আগে দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
দীর্ঘ তিন দশকের এই রাজনৈতিক শাসনামলে উন্নয়নের বহু প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে গড়ে ওঠেনি উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প-কারখানা। ফলে এই এলাকার যুবসমাজ আজও বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে প্রার্থী করায় এলাকায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তার প্রার্থিতা ঘিরে ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগছে—এবার কি আসলেও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে?
উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “দিনাজপুর-৬ এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত। আমার লক্ষ্য হিলিস্থল বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মাদকমুক্ত সমাজ ও দক্ষ জনশক্তি গড়াই আমার মূল লক্ষ্য।”এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
তবে সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে স্বপ্ন দেখানো হলেও পরে জনপ্রতিনিধিদের দেখা মেলে না। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প বা হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ এখন আর আশ্বাসের রাজনীতি চায় না। দৃশ্যমান উন্নয়ন, কলকারখানা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাস্তব বিনিয়োগই এখন এ অঞ্চলের চার উপজেলার মানুষের প্রধান দাবি।