নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০২:০৯ পিএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের এই প্রস্তাবটি যদি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বছরে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি গত ৪ নভেম্বর লিখিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই প্রস্তাব অর্থ বিভাগে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। প্রস্তাবে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাজের পরিমাণ এবং গুণগত মান আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারি সম্মতি থাকায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনও ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা যৌক্তিক এবং সময়ের দাবি।বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন। প্রস্তাব অনুযায়ী বেতন দুই ধাপ উন্নীত হয়ে ১১তম গ্রেড কার্যকর হলে কর্মরত শিক্ষকদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন গড়ে কয়েক হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি এবং পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এখন অর্থ বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন এলেই এই বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ মোট তিন দফা দাবি নিয়ে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এই তিন দফার মধ্যে আছে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদান, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। চলমান কর্মবিরতির কারণে দেশের অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন