মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে নতুন করে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এই নীতিমালাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ সাল থেকে এই নীতিমালার অধীনে সব কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষাও এই একই নিয়মে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০০৮ সালে জারিকৃত আগের সব নীতিমালা রহিত বলে গণ্য হবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে যে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুসরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম আইপিইএমআইএস-এ সক্রিয় থাকা আবশ্যক। পরীক্ষার বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের সাথে প্রাথমিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে মোট চারটি বিষয় থাকবে। প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়কাল হবে দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন।
বৃত্তির ধরন ও কোটা বিভাজনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে যেখানে ছাত্র ও ছাত্রীদের সংখ্যা সমান থাকবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধার ক্রমানুসারে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়কে ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি ইউনিটে দুইজন ছাত্র ও দুইজন ছাত্রী এবং একজন মেধা কোটাসহ মোট পাঁচটি সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে বৃত্তি পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যার উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে থাকবেন সচিব।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটিগুলো কাজ করবে। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন