সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

কৃষকের ছেলে থেকে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে:সুমনের সংগ্রাম

রাকিবুল হাসান মুন্না

আগস্ট ২১, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

কৃষকের ছেলে থেকে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে:সুমনের সংগ্রাম

ছবি দিনাজপুর টিভি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মেন্দিপাড়া গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনন্য এক সাফল্যের নজির গড়েছেন সুমন মাহমুদ। নানা প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে তিনি চীনের তাইয়ুয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স করার জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। এই বৃত্তির আওতায় তার শিক্ষার পুরো ব্যয় বহন করার পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট স্টাইপেন্ড প্রদান করা হবে।

অদম্য জেদ ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে উচ্চশিক্ষার এই বড় সুযোগ অর্জন করেছেন এই তরুণ শিক্ষার্থী।সীমিত সামর্থ্যের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সুমন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়ালেখার খরচ চালাতে শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তাকে টিউশনি করতে হয়েছে। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ, অন্যদিকে জীবিকা ও পড়াশোনার খরচ মেটানোর লড়াই—এই দুই দিক একসঙ্গে সামলানো ছিল তার জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে তৃতীয় বর্ষ থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হয় গবেষণার প্রস্তুতি, যা তার জীবনের গতিপথকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

বহু সংগ্রামের মধ্যেও একাডেমিক ফলাফলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন সুমন। স্নাতক পর্যায়ে তিন দশমিক সাত এক সিজিপিএ অর্জন করে তিনি বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গবেষণার জগতে প্রবেশ করেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার তাগিদ থেকেই মূলত তার এই গবেষণাযাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সাহিত্য পর্যালোচনা, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বহুবার সংশোধনের পথ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এ পর্যন্ত তার তিনটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি উচ্চমানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও স্প্রিঞ্জার ও আইজিআই গ্লোবালের বইয়ে তার গবেষণার অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে এবং আইইএলটিএস পরীক্ষায় তিনি ছয় দশমিক পাঁচ স্কোর অর্জন করেছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তার বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং স্ত্রীর নিরন্তর অনুপ্রেরণা তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জুগিয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে পাওয়া এই সাফল্যকে তিনি তার বহু বছরের পরিশ্রমের একটি অর্থবহ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাজীবনের এই অর্জনকে কেবল একটি গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না সুমন। চীনের তাইয়ুয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে গিয়ে তিনি গবেষণার সুযোগকে আরও প্রশস্ত করতে চান এবং অর্জিত জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান। তার এই সফল যাত্রা প্রমাণ করে যে, সুযোগের সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের বড় স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না। নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল আস্থার মাধ্যমেই শত প্রতিকূলতা জয় করে সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।