ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
নতুন সরকার গঠনের পর দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তিনি মনে করেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনা প্রয়োজন। বুধবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় শাকিব খান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সরকারি অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান চেয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পুরস্কার প্রদান ও অনুদান বিতরণে স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব রোধে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে তিনি একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন এবং অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতির প্রবর্তনসহ পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে প্রকৃত মেধাবীরা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হন।
দেশের প্রেক্ষাগৃহ সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সুপারস্টার বলেন, কয়েক বছর ধরে হল বাড়ানোর অনেক আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো বড় অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।
বর্তমানে মানুষ পরিবার নিয়ে ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে, তাই তাদের জন্য একটি আধুনিক ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। জরাজীর্ণ সিনেমা হলগুলো সংস্কারের জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান এবং বিশেষ করছাড়ের দাবি জানান। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যেসব জেলায় কোনো সিনেমা হল নেই, সেখানে কম আসনবিশিষ্ট ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের পরামর্শও দিয়েছেন শাকিব খান, যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে।
চলচ্চিত্র শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছেন শাকিব খান। নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি লিজ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম যেমন প্রজেকশন ও সাউন্ড সিস্টেম আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি তাঁর অন্যতম প্রধান প্রস্তাব। শাকিব খানের মতে, আধুনিক ডিজিটাল প্রজেকশন ও অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করলে দর্শক সিনেমা দেখার উন্নত অভিজ্ঞতা পাবে যা শেষ পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা চালু এবং উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও দর্শক ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি ঝামেলামুক্ত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন