অক্টোবর ১১, ২০২৫, ০৯:৫২ পিএম
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়ে আসছে এক ব্যতিক্রমী সঙ্গীতায়োজন! দেশের শীর্ষস্থানীয় নাশিদ শিল্পীদের সমাহারে টিউন হার্টের ব্যানারে তৈরি হচ্ছে এক নতুন নাশিদ, যার শিরোনাম 'ঐক্য চাই'। এর মূল বার্তা দল-মত-ঘরানা নির্বিশেষে সকলকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান। এই বিশেষ প্রকল্পের পেছনের গল্প, এর উদ্দেশ্য এবং নির্মাণ কৌশল নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য একটি বহুল আলোচিত এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়। ঠিক এই প্রয়োজন এবং অনুভূতিকে কেন্দ্র করেই টিউন হার্ট তৈরি করছে এই অনন্য আয়োজন। এই নাশিদটি শুধু একটি গান নয়, এটি একটি বার্তা, একটি দর্শন – যা মুসলমান ভাইদের মধ্যে জাতিভেদ, কওমভেদ এবং মতানৈক্য ভুলে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। এই গানের প্রতিটি বাক্যই ঐক্যের জন্য নিবেদিত, যা দেশের ওস্তাদ শিল্পী ও এর পেছনের কারিগররা উল্লেখ করেছেন।
গানের কথায় ইতিহাসের আলোকে যেমন কারবালা থেকে শুরু করে শাপলা পর্যন্ত চলে এসেছে, তেমনি পূর্বপুরুষদের ইসলামের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া এবং রক্ত ঝরানোর কথাও উঠে এসেছে। এই ইতিহাসের মূল বার্তা হলো, আমাদের পূর্বপুরুষরা যে ঐক্যের উপর ভিত্তি করে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, সেই ঐক্যই আজকের মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এই নাশিদ সেই ঐতিহাসিক ঐক্য ও সংহতিরই পুনরাহ্বান।
'ঐক্য চাই' গানটির সুরারোপ এবং কথা লিখেছেন মোনওয়ার হোসেন। তার এই কাজকে সবাই প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। মোনওয়ার হোসেন ভাই চমৎকার লিখেছেন এবং সুর করেছেন। তিনি মনে করেন, এই গানটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। গানের কথায় কারবালা, ফোরাত নদীর তীর, শাপলা, বালাকোট, পলাশীর প্রান্তর – এইসব ঐতিহাসিক স্থান ও ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মুসলমানরা রক্ত ঝরিয়েছেন।
গানের এই লাইনগুলো খুবই মর্মস্পর্শী: "কারবালা ফোরাতের সিন্ধু নদীর তীরে রক্ত ঝরিয়েছি আমরাই, বালাকোট শাপলায় পলাশীর প্রান্তরে আজও সেই রক্তের ঘ্রাণ পাই।" এই লাইনগুলো ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি এবং ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। গানটি লেখার সময় এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলো মোনওয়ার হোসেনের মনে ছিল, এবং তিনি সেই ভাবধারাকে গানের কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
এই নাশিদটিতে দেশের নাশিদ জগতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা একত্রিত হয়েছেন। এই দলে রয়েছেন ওস্তাদ তাফাজ্জুল হোসেন, উবাইদুল্লাহ তারেক, আবু উবায়দা, আবু রায়হান, জয়নাল আবেদীন একাত্তর, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ইকবাল হোসেন এবং টিউন হার্টের পরিচালক সাইম আল হাসান।
দেশের সেরা শিল্পী ও সুরকারদের এই সমাগম গানটিকে এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। শিল্পীরা যখন এক ছাতার নিচে আসেন, তখন তাদের কাজের মান এবং বার্তা আরও শক্তিশালী হয়। টিউন হার্টের এই উদ্যোগ শিল্পী মহলে এবং শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিটি শিল্পী নিজেদের জায়গা থেকে এই প্রকল্পের জন্য অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন।
পুরো প্রোজেক্টটির ওভারঅল ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশের অন্যতম সৃজনশীল আলম মোর্শেদ। যখন সাইম আল হাসান তাকে এই প্রোজেক্টের কথা বলেন, তখন গানটির রেকর্ডিং সেশন চলছিল। আবু উবায়দা জানান যে, একাত্তর ভাই রেকর্ডিংয়ের প্রতিটি বিষয়ের একটি ডায়াগ্রাম সাজিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, তারা নতুন ব্লাড বা নতুন কারো কাছ থেকে সুন্দর করে একটি কাজ করতে চেয়েছিলেন। অনেক কিছু অ্যারেঞ্জ করার পর যখন ভিডিওর ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়, তখন সেট বানানোর চিন্তা আসে। তার পরিকল্পনাতেই তৈরি হয়েছে এই ঐক্যের গানের কাঠামো, যা গানটির গভীর বার্তাকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করবে।
গানের অডিও অ্যারেঞ্জিং, সাউন্ড মিক্সিং, মাস্টারিং সবই আলাদা আলাদাভাবে করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে একত্রিত করা হয়েছে। আবু উবায়দা বিনয়ের সাথে বলেছেন যে, এই কৃতিত্বের পুরোটাই তার একার নয়, বরং এর পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় শুটিং সিটি, যা সাধারণত নর্থ সিটি শুটিং সিটি নামেই পরিচিত, সেখানে এই গানটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। গানটির শুটিংয়ের দৃশ্যগুলো ছিল বেশ জমকালো এবং তাৎপর্যপূর্ণ। শুটিং সেটের নকশা, আলো এবং শিল্পীদের পোশাক – সবকিছুই গানটির ঐক্যের বার্তাকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। দর্শক মহলেও এখন এই গানটি নিয়ে দারুণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। গানটির কিছু ঝলক ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অনেকেই বলছেন, এটি হতে যাচ্ছে সময়ের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী নাশিদ প্রকল্প। এই ধরনের একটি বড় বাজেটের এবং বড় আকারের কাজ বিনোদন জগতে একটি নতুন ধারা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সাথে জড়িত শিল্পীরা বলছেন যে, প্রতিটি কাজই চ্যালেঞ্জিং। তবে তারা যখন সবার কাছে আবদার করেছেন, তখন অধিকাংশ শিল্পীই এটিকে খুব সুন্দরভাবে এবং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ওস্তাদ তাফাজ্জুল হোসেন শুধু ইতিবাচক সাড়া দেননি, বরং সাইম আল হাসানকে বলেছেন যে, "আমাদের যারা আছে সবার কাছে যাও, যদি কেউ না আসে আমার কাছে বিচার দিবা।" এটি প্রমাণ করে যে, এই প্রকল্পের পেছনের বার্তা এবং এর উদ্দেশ্য শিল্পীদের মধ্যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সবাই প্রত্যেকটি জায়গা থেকে যারা ভয়েস দিয়েছেন, তারা যা চাওয়া হয়েছিল তার চেয়েও বেশি ভালো কিছু দিয়েছেন। গানটির লিরিক পড়েও অনেকে চমৎকৃত হয়েছেন। এমন লিরিক সচরাচর দেখা যায় না, যেখানে কথার ভেতরে ছন্দের মিল, অন্ত্যমিল এবং ভাবগাম্ভীর্য রয়েছে। ড. জয়নাল আবেদীন একাত্তর গানের এই দিকটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
খুব শীঘ্রই 'ঐক্য চাই'-এর পূর্ণাঙ্গ ভিডিও দর্শকদের সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই গানটি যে কেবল একটি বিনোদনমূলক উপাদান নয়, বরং একটি সামাজিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করে, তা এর সাথে জড়িত সকলের কথায় স্পষ্ট।
আল্লাহ তা'আলার কোরআনের আয়াত "ওয়াতাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়া ওয়ালা তাফাররাকু" – অর্থাৎ, "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না" – এই বার্তার ওপর ভিত্তি করেই মোনওয়ার হোসেন গানটি রচনা করেছেন। তিনি এই গানটি রচনার পর সাইম ভাইকে লিরিক ও টিউন দেওয়ার পর সাইম অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে এই অনবদ্য ঐক্যবদ্ধ গানটি রচিত হতে যাচ্ছে। এই গানটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ ভুলে একতার ডাক দেবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন