রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পারিবারিক গল্পে মোশাররফ করিমের ‍‍`ত্যাল‍‍`, সামাজিক অবক্ষয় তুলে ধরে

শাহিন ইসলাম

অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ১০:১৬ এএম

পারিবারিক গল্পে মোশাররফ করিমের ‍‍`ত্যাল‍‍`, সামাজিক অবক্ষয় তুলে ধরে

ছবি- সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক: সম্প্রতি জি-সিরিজের ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক মেহেন্দি রনির নতুন নাটক 'ত্যাল' (Tel), যা সমাজের গভীরে প্রোথিত কিছু তিক্ত বাস্তবতা ও পারিবারিক সম্পর্কের জটিল দিকগুলো তুলে ধরেছে। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম, যিনি তার অনবদ্য অভিনয় দিয়ে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

তার সহ-অভিনেতা হিসেবে রয়েছেন তানিয়া বৃষ্টি, ইমরান আজান, সুমাইয়া হক নূরী, জাভেদ আলী, খায়রুল আলম, এম. আর. মুরাদ এবং আরও অনেকে, যাদের সম্মিলিত অভিনয় নাটকটিকে করেছে আরও উপভোগ্য। প্রযোজক নাজমুল হক ভুঁইয়ার প্রযোজনায় জাভেদ আলী ও মেহেন্দি রনির যৌথ গল্পে নির্মিত এই নাটকটি সামাজিক অস্থিরতা,

পারিবারিক অবহেলা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতি মানুষের আসক্তি—এমনসব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দর্শকদের ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নাটকের মূল চরিত্র, যেখানে মোশাররফ করিম অভিনয় করেছেন, তার পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি এক ধরনের উদাসীনতা প্রকাশ পাচ্ছে।

পারিবারিক সম্প্রীতির বদলে সে নিজের ব্যক্তিগত আসক্তি এবং অসামাজিক কার্যকলাপের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য বয়ে আনছে চরম দুর্ভোগ। নাটকের গল্পে এমন কিছু দৃশ্য এবং সংলাপ রয়েছে, যা সমাজের বাস্তব চিত্রকে আয়নার মতো প্রতিফলিত করে, যেখানে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান ও যত্ন পান না, এমনকি পরিবারের প্রতিও দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যায়।

এই ধরনের চিত্রায়ণ দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগায় যে, আধুনিক সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ কতটা ক্ষয়ে যাচ্ছে। নাটকের কারিগরি দিকগুলোও বেশ প্রশংসনীয়; ফোরকান উদ্দিনের সিনেমাটোগ্রাফি নাটকটির প্রতিটি দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মেহেন্দি রনি এবং রাজনের সম্পাদনা ও রং বিন্যাস নাটকটির প্রতিটি ফ্রেমকে দৃষ্টিনন্দন করেছে, এবং বি.এইচ. পারভেজের আবহ সঙ্গীত (BGM) নাটকের মেজাজকে আরও ঘনীভূত করেছে। খোরশেদ আলম ছিলেন এক্সিকিউটিভ প্রযোজক,

এবং জি-সিরিজের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত লেবেল থেকে মুক্তি পাওয়ায় নাটকটি ব্যাপক সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। 'ত্যাল' নাটকটি শুধু একটি বিনোদনমূলক কাজ নয়, বরং এটি সমাজের প্রতি একটি বার্তা বহন করে, যা দর্শকদের নিজেদের জীবন ও আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করে।