শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

পদ্মার মিডিল চরে সবুজের সমারোহ চারণভূমি দেখতে পর্যটকদের ভিড়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

পদ্মার মিডিল চরে সবুজের সমারোহ চারণভূমি দেখতে পর্যটকদের ভিড়

রাজশাহীর পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা মিডিল চরে বর্ষার শুরুতে সবুজের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক রূপ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা ট্রলার ও নৌকা নিয়ে চরে উপস্থিত হচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনায় চরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বছরে মাত্র তিন মাস এই চরে সবুজ ঘাস জন্মায়।বর্ষার শুরুর এই নির্দিষ্ট সময়ে চরে পর্যাপ্ত ঘাস থাকায় হাজার হাজার গবাদিপশু চড়ানো হয় এবং পশুর পুষ্টির প্রধান জোগান আসে এই চারণভূমি থেকে। কিন্তু পর্যটকদের অতিরিক্ত চলাচলের ফলে পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে নষ্ট হচ্ছে চরের ঘাস, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় গবাদিপশুর খাদ্যে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, কলার খোসা ও অন্যান্য বর্জ্য চরের কৃষিজমি ও পরিবেশকে দূষিত করছে।

চরের বাসিন্দারা জানান, পর্যটকদের ব্যবহৃত ড্রোনের কারণে স্থানীয় নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গ্রামে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় তৈরি হচ্ছে বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি। এছাড়া চরে বহিরাগতদের কারণে গবাদিপশুর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গ্রামীণ পরিবেশের শালীনতা ও স্থানীয় সামাজিক রীতিনীতি বজায় রাখার জন্য দর্শনার্থীদের প্রতি বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন চরের প্রবীণরা।

পদ্মার এই মিডিল চরে দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৬৪ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা চরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্ষার পানি বাড়তে থাকলে স্কুল প্রাঙ্গণে পানি উঠে যায় এবং আশপাশের অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখা হয়। বর্ষার শেষ দিকে পুরো চর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার পর বাসিন্দারা সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

পানি নেমে গেলে চরের এই সবুজ রূপ আর স্থায়ী থাকে না এবং পুরো অঞ্চল রূপ নেয় বালুময় প্রান্তরে। স্থানীয়দের মতে, পরিবেশ ও চারণভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত না করে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন চলতে থাকলে চরের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।