বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

শিলাজিৎ কীভাবে তৈরি হয়: হিমালয়ের দুর্গম রহস্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

শিলাজিৎ কীভাবে তৈরি হয়: হিমালয়ের দুর্গম রহস্য

হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত পাদ্দার উপত্যকার বুক চিরে বয়ে চলেছে চেনাব বা চন্দ্রভাগা নদী। নীলমণি কিংবা গুচ্চি মাশরুমের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে এই পাহাড়ি অঞ্চলে। তবে এসবের বাইরে এখানকার খাড়া পাথুরে পাহাড়ের গায়ে লুকিয়ে থাকা আরেক উপাদান হলো শিলাজিৎ।

উচ্চ হিমালয়ের পাথরের খাঁজেই মূলত শিলাজিৎ তৈরি হয়। ঘন ও থকথকে এই কালো পদার্থটি শত শত বছর ধরে উদ্ভিদ ও খনিজের পচনে রূপ নেয়। ভারতে বহুকাল ধরে এটি প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক হিসেবে পরিচিত হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কার্যকারিতার পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ মেলেনি। শরীরচর্চাকারী ও খেলোয়াড়দের মাঝেও গরম পানি বা কফিতে মিশিয়ে এটি সেবনের প্রচলন রয়েছে। পাদ্দার উপত্যকার মাও গ্রামের বাসিন্দা মনোহরলাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই উপাদান সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

মাও গ্রামের একমাত্র তিনিই নিয়মিত এই দুর্গম চূড়ায় ওঠেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ হাজার ফুট বা চার হাজার মিটার উচ্চতায় কোনো রকম আধুনিক সরঞ্জাম বা দড়ি ছাড়াই কেবল অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে ওঠেন মনোহরলাল। খাড়া পাহাড়ে ওঠার কঠিন পথ নিয়ে তাঁর সঙ্গী আদিত্য জানান, এই ট্রেকটা বেশ কঠিন, উঠতে বেশ পরিশ্রম হয়। কিন্তু যখন একবার পৌঁছে যাই, যখন সফলতা মেলে, তখন অসাধারণ অনুভূতি হয়।

চার-সাড়ে চার ঘণ্টা খাড়া পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ার বিপজ্জনক খাঁজে পৌঁছাতে হয়। খালি পায়ে ভারসাম্য রেখে পাথরের গা থেকে দুই-তিন কেজি শিলাজিৎযুক্ত পাথর ভেঙে ব্যাগে ভরেন মনোহরলাল। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মনোহরলাল বলেন, পাথর আনাই যা কঠিন, তৈরি করা বেশ সহজ। আপনি তো দেখলেন, কতটা ঝুঁকি নিয়ে এই কাজটা করতে হয়। একটু পা হড়কে গেলেই খাদে, শেষ। বহু গভীর খাদ আছে এখানে।

পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা পাথর ভেঙে গুঁড়ো করে পানিতে দীর্ঘ সময় ফোটানো হয়। গলে যাওয়া তরল শিলাজিৎ উপরে ভেসে উঠলে তা পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে অপদ্রব্য আলাদা করে নেওয়া হয়। পুরো দুই দিনের শ্রম ও পুনর্বার জ্বাল দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় খাঁটি শিলাজিৎ।