এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সব শিশুকে এখনই এই টিকা প্রদান করা যাবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় শিশুদের এই বিশেষ টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষ করে যেসব শিশু বর্তমানে অসুস্থ বা জ্বরে ভুগছে তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত গাইডলাইন তুলে ধরেন।
তিনি জানান আজ সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত উপজেলাগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হলেও অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে যেসব শিশুর শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর রয়েছে তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না। শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরই কেবল তাকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও এই টিকা প্রদান স্থগিত রাখতে হবে। বিশেষ করে যাদের তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা রয়েছে তাদের সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না।
এছাড়া যেসব শিশুর অতীতে হামের টিকা নেওয়ার পর মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যানাফাইলাক্সিসের ইতিহাস রয়েছে তাদের পুনরায় এই টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে যেসব শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল তারা এই টিকার ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকতে পারে। বিশেষ করে যারা ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করছে তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ ছাড়া টিকা দেওয়া উচিত হবে না।
পাশাপাশি যেসব শিশু গত কয়েক মাসের মধ্যে রক্ত বা রক্তজাত কোনো পণ্য গ্রহণ করেছে তাদের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মূলত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ইতিপূর্বে যারা হামের টিকা নিয়েছে তারাও চাইলে এই ক্যাম্পেইন থেকে পুনরায় টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের জটিলতা কমাতে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলবে। আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন