এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
দেশে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিগত চার বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা সাময়িক ছেদ পড়ার কারণেই বর্তমান এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।শনিবার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছিল। সচিব তার বক্তব্যে জানান যে আগামী ১২ এপ্রিল রবিবার থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় টিকার কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল থেকে ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে অন্তত ১৬৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ জন শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টিকাদান কর্মসূচির রোডম্যাপ অনুযায়ী ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে বিভাগীয় সিটি করপোরেশনগুলোতে এই কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আগামী ২০ এপ্রিল থেকে একযোগে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি পালিত হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্য সচিব বলেন যে যেসব শিশু আগে হামের টিকা গ্রহণ করেছে তারাও এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা নিতে পারবে। তবে যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত অথবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে তাদের সুস্থ হওয়ার আগে টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।_


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন