মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
স্মার্টফোন দুনিয়ায় নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে ভিভো। প্রযুক্তিপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোম্পানিটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত ক্যামেরা ফোন ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। নতুন এই ফোনটি মূলত ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফিকে পেশাদার স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
আগের সংস্করণগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেও হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই এতে আনা হয়েছে বিশাল পরিবর্তন। বিশেষ করে ফোনের ক্যামেরা সেন্সর এবং লেন্স প্রযুক্তিতে কোম্পানিটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ক্যামেরা সিস্টেম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটারের একটি শক্তিশালী মেইন ক্যামেরা, যার পেছনে রয়েছে সনি লিটিয়া ৯০১ এর ১.১২-ইঞ্চি সেন্সর। এটি প্রায় এক ইঞ্চির কাছাকাছি বড় সেন্সর এবং এর রেজোলিউশন ২০০ মেগাপিক্সেল।
আগের মডেলের তুলনায় এর লেন্সের কার্যক্ষমতা অনেক বাড়ানো হয়েছে। নতুন ওয়ান জি প্লাস সিক্স পি কোটিং প্রযুক্তির কারণে লেন্সের প্রতিফলন প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে। এই প্রযুক্তির ফলে ছবি হবে আরও স্বচ্ছ এবং প্রাণবন্ত। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের জন্য এই ফোনটি হতে পারে একটি আদর্শ বিকল্প।ফোনের জুম ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ভিভো কোনো আপস করেনি। ৮৫ মিলিমিটারের টেলিফটো লেন্সটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাংয়ের নতুন আইসোলেল এইচপি০ সেন্সর। ২০০ মেগাপিক্সেলের এই সেন্সরটি আগের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত অটোফোকাস করতে সক্ষম।
ভিভোর দাবি অনুযায়ী, এটি প্রতি সেকেন্ডে ৬০ বার ফোকাস আপডেট করতে পারে। এর পাশাপাশি জিম্বাল গ্রেড অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত স্থিতিশীল ছবি ও ভিডিও নিশ্চিত করবে। লেন্সটির অ্যাপারচার কিছুটা কম হলেও আধুনিক সেন্সরের কারণে আলোর স্বল্পতা ছবি তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না।ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রেও ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা বেশ কিছু নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে। এতে সবকটি লেন্সেই অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ফোনটি ৪কে ১২০ এফপিএস গতিতে ১০-বিট লগ ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম, যা পেশাদার পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জন্য উপযোগী। নতুন কালার সায়েন্স যুক্ত করার জন্য এতে ১২টি স্পেকট্রাল চ্যানেলের একটি ৫০ মেগাপিক্সেল ট্রু কালার লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এটি পিক্সেল লেভেলে রঙের সঠিকতা নিশ্চিত করে। ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ফিল্মিক বা ভিভিড কালার মুডে ভিডিও করতে পারবেন।
পারফরম্যান্সের দিক থেকে ফোনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেনারেশন ৫ প্রসেসর। ফোনটি ১২ জিবি এবং ১৬ জিবি র্যামের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণে বাজারে পাওয়া যাবে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এতে রয়েছে বিশাল ৬ হাজার ৬০০ এমএএইচ ব্যাটারি। দ্রুত চার্জ করার জন্য ১০০ ওয়াটের ওয়্যারড এবং ৪০ ওয়াটের ওয়্যারলেস ফ্ল্যাশ চার্জিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ৬.৮২ ইঞ্চির আল্ট্রা এক্সডিআর অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা ১৪৪ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে।
প্রাথমিকভাবে ফোনটি চীনের বাজারে অবমুক্ত করা হয়েছে তবে খুব শীঘ্রই এটি বৈশ্বিক বাজারে আসবে বলে জানানো হয়েছে। সবুজ, সিলভার এবং কালো—এই তিনটি আকর্ষণীয় রঙে ফোনটি কেনা যাবে। স্টোরেজের ওপর ভিত্তি করে এর কয়েকটি আলাদা ভেরিয়েন্ট রাখা হয়েছে। এমনকি ১ টেরাবাইট স্টোরেজ সমৃদ্ধ বিশেষ সংস্করণটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগের সুবিধাও থাকছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে এই ফোনটি আইফোন বা স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনগুলোর সঙ্গে কড়া প্রতিযোগিতা করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন