বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালী ও বিদ্যুৎকেন্দ্র: যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৯:১১ এএম

হরমুজ প্রণালী ও বিদ্যুৎকেন্দ্র: যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালী সচল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের জবাবে কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ এই হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পার্লামেন্ট স্পিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো ধরনের আক্রমণ চালায়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জরুরি অবকাঠামোতে অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সেক্ষেত্রে ওই দেশগুলোর জ্বালানি খাত, তেলক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। 

এছাড়া এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য বেড়ে যাবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, এই সময় পার হওয়ার পর যদি প্রণালীটি সচল না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেবে। 

মূলত ট্রাম্পের এই হুমকির পরই তেহরান তাদের মিত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলার পরিকল্পনা প্রকাশ করল।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এবং দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এই বিরোধের প্রভাব সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ইরানের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটন এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।